দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঁদিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল ভারত। ফাইনালের মহারণে প্রোটিয়াদের ৭ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরল রোহিত শর্মার দল।
এর আগে ২০০৭ সালে ইতিহাসের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘরে তুলে ইতিহাস গড়েছিল ভারত। আর এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হলো দলটি। আর প্রথমবার যেকোনো ফরম্যাটের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে হাতাশ হতে হলো প্রোটিয়াদের।
বার্বাডোজে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হয় ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। যেখানে প্রথমে ব্যাট করা ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৬ রান করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৯ রানে থামে দ. আফ্রিকা।
১৭৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা শুরুতে জসপ্রিত বুমরাহর বলে রিজা হেনড্রিক্সকে হারায়। তৃতীয় ওভারে অধিনায়ক এইডেন মার্করাম আর্শদীপ সিংয়ের শিকার হন। তবে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৩৮ রান তোলেন কুইন্টন ডি কক ও ট্রিস্টান স্টাবস। ট্রিস্টান ২১ বলে ৩১ ও ডি কক ৩১ বলে ৩৯ রানে আউট হন।
ঝড়ো ব্যাটিং করেন হেনরিখ ক্লাসেন। এই ডানহাতি ২৭ বলে ২টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৫২ রান করে প্রোটিয়াদের জয়ের সম্ভাবনাও জাগান। তবে হার্দিক পান্ডিয়ার বলে আউট হলে স্বপ্ন ভাঙে দলটির। ডেভিড মিলার ১৭ বলে ২১ রান করলেও ভারতীয় বোলারদের দাপটে হেরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ভারতীয় বোলারদের মধ্যে পান্ডিয়া সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট পান। এছাড়া বুমরাহ ও আর্শদীপ ২টি করে উইকেটের দেখা পান।
টস জিতে এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। দ্বিতীয় ওভারে বল করতে আসা কেশভ মাহারাজের বলে জোড়া উইকেট হারায় দলটি। রোহিত শর্মার (৯) পর ঋশভ পন্থকে (০) হারায় তারা। এরপর কাগিসো রাবাদার বলে ব্যক্তিগত ৩ রানে সূযকুমার যাদব আউট হলে বিপদে পড়ে ভারত।
তবে চতুর্থ উইকেট জুটিতে হাল ধরেন বিরাট কোহলি ও আক্সার প্যাটেল। তারা ৫৪ বলে ৭২ রানের পার্টনারশিপ গড়েন। রান আউট হওয়া আক্সার ৩১ বলে একটি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৭ রান করেন। কিন্তু এরপর শিভম দুবেকে নিয়ে আবারও ফিফটি রানের জুটি গড়েন কোহলি।
পুরো টুর্নামেন্টে অফফর্মে থাকা কোহলি এদিন অসাধারণ ইনিংস খেলে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন। ১৯তম ওভারে মার্কো জানসেনের বলে আউট হওয়ার এই তারকা ৫৯ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৭৬ রান করেন। এছাড়া দুবে ১৬ বলে ২৭ রান করলে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় ভারত।
প্রোটিয়া বোলারদের মধ্যে ২টি করে উইকেট পান মাহারাজ ও আনরিখ নরকিয়া।