ভারতের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের খেলায় দেখিয়েও জয় তুলে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়েন হামজারা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হয়। সি গ্রুপের ম্যাচে তৃতীয় রাউন্ডে খেলতে নামে দুদল। বাংলাদেশের জার্সিতে এ ম্যাচে অভিষেক হয় বহুল আলোচিত হামজা চৌধুরীর। আর অবসর ভেঙে ভারতীয় শিবিরে ফেরেন দলটির কিংবদন্তি সুনীল ছেত্রী।
ভারতের বর্তমান র্যাংকিং ১২৬, আর বাংলাদেশের ১৮৫। তবে অনেক পিছিয়ে থেকেও মাঠে বাংলাদেশই দাপট দেখিয়েছে। একাধিক বার ভারতের গোল পোস্টে আক্রমণ করেছে হামজারা। তবে সবকটি গোলের সুযোগ মিসও করেছে তারা।
বাংলাদেশ ম্যাচের শুরুর পরই গোলের সুযোগ পেয়েছিল। ম্যাচের ৩১ সেকেন্ডের মাথায় ভুল করে বল বাংলাদেশের মিডফিল্ডার জনির কাছে বল দিয়ে দিয়েছিলেন ভারতের গোলকিপার ভিশাল কাইথ। পোস্ট খালি পেয়েও নেটের পাশে শট মারেন জনি।
শাহরিয়ার ইমন ম্যাচের ৯ মিনিটের মাথায় বক্সে বল পেয়েছিলেন। মোরসালিনের বাড়িয়ে দেওয়া বলে বলে তার হেড গোলপোস্টের পাশ ঘেষে চলে যায়। ম্যাচের ১৭ মিনিটে ডান প্রান্ত হামজার থ্রুও এনে দিয়েছিল গোলের সুযোগ। তবে জনি বাং অন্য কেউ সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।
খেলার ২১ মিনিটে ইনজুরির শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন তপু বর্মণ। এরপরও কয়েক বার আক্রমণ করে বাংলাদেশ। কাউন্টার অ্যাটাকে ভারতও কয়েক বার আক্রমণ করে। বাংলাদেশের হয়ে ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান গোলরক্ষক মিতুল বড়ুয়া।
বিরতির পর খেলা কিছুটা ঢিমেতালে চলে। কোনো দলই তাড়াহুড়া করে ভুল করতে চায়নি। মাঝমাঠে চলে বল দখল নিয়ে জমাট আক্রমণে ওঠার লড়াই।
৬১ মিনিটে রাকিবের প্রেসিংয়ে পড়ে বল আবারও ভুল পাস দিয়ে বসেন ভারতের গোলকিপার বিশাল কাইথ। বলটা পেয়ে যান জনি। ডিফেন্ডার শুভাশীষকে কাটিয়ে যেভাবে জনি শট নিতে চেয়েছিলেন কিংবা ক্রস করতে, সেভাবে পারেননি। জনি বল পাওয়া মাত্র শট নিলে কি গোলের সম্ভাবনা জাগত? যা করেছেন তার চেয়ে অন্তত শট নেওয়াটা বেশি কার্যকর ছিল।
৭৩ মিনিটে কর্নার থেকে ভেসে আসা বলে মার্কারকে দূরে ঠেলে হেড নিয়েছিলেন ভারতের ডিফেন্ডার শুভাশীষ। বুলেট গতির হেড পোস্টে পাশ দিয়ে চলে যায়।
শেষ দিকে লং থ্রোয়ের পর জটলার ভেতর থেকে ফিরতি বল পেয়েছিলেন বদলি নামা স্ট্রাইকার ফয়সাল। বাঁ প্রান্তে বেশ দূরত্ব থেকে বাঁ পায়ের বুলেট গতির শট নেন। বলটি কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন ভারতের গোলকিপার বিশাল কাইথ।
এরপর দুদল সেভাবে আর কোনো উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করতে না পারায় সমতায় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।