আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের চালানো নিরলস হামলায় নারী ও শিশুসহ নিহত হয়েছেন শত শত ফিলিস্তিনি। পরে এর জবাবে ইসরায়েলি বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিবে রকেট হামলা চালিয়েছে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী হামাস। আর এ অবস্থায় ইসরায়েলে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
রবিবার সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশটিতে বসবাসকারী আমেরিকানদের সতর্ক থাকার এবং বৃহৎ বিক্ষোভ ও রকেট হামলার সতর্কতাসহ সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে।
এ নিয়ে দূতাবাস জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিকদের বৃহৎ সমাবেশ এড়িয়ে চলা উচিত এবং নিকটতম আশ্রয়স্থলের অবস্থান জানা উচিত।
এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে গত সপ্তাহে ইসরায়েলে বেশ কয়েকবার রকেট সাইরেন এবং রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েলি বাণিজ্যিক কেন্দ্র তেল আবিবে রকেট হামলা চালিয়েছে হামাস। নতুন করে স্থল ও আকাশপথে ইসরায়েলের হামলায় অসংখ্য সাধারণ নাগরিকের প্রাণহানি ঘটে। এ প্রাণহানির প্রতিশোধ নিতেই গত বৃহস্পতিবার হামাস এই হামলা চালায়।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, দক্ষিণ লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন কয়েক ডজন রকেট লঞ্চার এবং একটি কমান্ড সেন্টারে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সৈন্যরা।
মূলত যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় হিজবুল্লাহর মিত্র হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েল নতুন করে অভিযান শুরু করার পর শনিবার ইসরায়েল-লেবাননে এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে। এরপর থেকেই ইসরায়েলে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘যেকোনো ধরনের যুদ্ধের’ হুঁশিয়ারি চীনের
যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে চীন বলেছে, তারা যেকোনো ধরনের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক শুল্ক আরোপের ঘোষণার জেরে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন।
দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন দেশের পণ্য আমদানির ওপর একের পর এক শুল্ক আরোপ করে যাচ্ছেন। যেখানে তিনি সম্প্রতি তিনি চীনের সব পণ্যের ওপর আরও বেশি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বসে নেই চীনও। তারা দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের খামারজাত পণ্যের ওপর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ দুই অর্থনীতির দেশ। পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ নিয়ে এ দুই দেশ এখন বৃহৎ বাণিজ্যযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে।
এ নিয়ে ওয়াশিংটনে চীনের দূতাবাস থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে বলা হয়, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধই চায়, এটা হতে পারে শুল্কযুদ্ধ, একটি বাণিজ্যযুদ্ধ অথবা যেকোনো ধরনের যুদ্ধ, আমরা শেষ পর্যন্ত লড়ে যেতে প্রস্তুত আছি।’
চীনা দূতাবাস গত মঙ্গলবার বেইজিং সরকার যে বিবৃতি দিয়েছিল, সেখান থেকেই এ লাইনটি নিয়ে পোস্ট দিয়েছে।
চীনের নেতারা বার্ষিক ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে অংশ নিতে বেইজিংয়ে জড়ো হয়েছেন। গতকাল বুধবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং ঘোষণা করেছেন, চীন আবারও তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে ৭ দশমিক ২ শতাংশ বেশি বরাদ্দ দেওয়া হবে।
বেইজিংয়ের সম্মেলন থেকে নেতারা দেশবাসীকে এই বার্তা দিতে চাইছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে, এমনকি একটি বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার ঝুঁকির মধ্যেও।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীন সরকার তুলনা টেনে এটা দেখাতে চাইছে, তাদের দেশ স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ অবস্থায় আছে। বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউক্রেন যুদ্ধে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ করেছে।
এদিকে কানাডা ও মেক্সিকোর মতো যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোর বিরুদ্ধে ট্রাম্প যেসব ব্যবস্থা নিচ্ছেন, চীন হয়তো সেসবও পুঁজি করার আশায় আছে। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রতিবেশী কানাডা এবং মেক্সিকো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চীন সরকার শুল্ক আরোপ নিয়ে বিবাদে খুব বড় বড় কথা বলছে না। তারা হয়তো নতুন বৈশ্বিক অংশীদারের ভয় দেখাতে চাইছে না।
বুধবার প্রধানমন্ত্রী লি দৃঢ়ভাবে বলেছেন, চীন তাদের দ্বার খুলে রেখেছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের আশায় আছে।
এর আগেও চীন যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকার কথা বলেছিল। গত বছর অক্টোবরে তাইওয়ান ঘিরে বড় আকারে সামরিক মহড়ার সময় চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাঁর সামরিক বাহিনীকে যুদ্ধের প্রস্তুতি বাড়াতে বলেছিলেন।
যদিও যুদ্ধের জন্য সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া এবং প্রস্তুত থাকার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।