থাইল্যান্ডে দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলন। ৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এবারের সম্মেলন।
এই সম্মেলনে যোগ দিতে আগামীকাল ব্যাংকক যাচ্ছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই সফরে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন।
সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে ইতিবাচক কোনো বার্তা দেয়নি ভারত।
এ নিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকটি হলে দুই দেশের বাণিজ্যসহ বেশকিছু অমীমাংসীত বিষয়ে সমাধান আসতে পারে।
বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলংকা ও থাইল্যান্ড এ সাতটি দেশের জোট বিমসটেকের এবারের সম্মেলনে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও সমুদ্র পরিবহন নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।
ড. ইউনূসের চীন সফরে সম্পর্কের গতি বৃদ্ধির প্রত্যাশা
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস চারদিনের চীন সফরের পর দেশে ফিরেছেন গত শনিবার। এই সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের একটি চুক্তি এবং আটটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। চীনের সঙ্গে সহযোগিতার যে জায়গাগুলো স্থবির হয়ে পড়েছিলো তা ফের গতি পাবে আশা তাদের।
সমঝোতা স্মারকগুলোর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের কালজয়ী সাহিত্য ও শিল্পকর্মের অনুবাদ ও সৃজন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও খবর আদান-প্রদান, গণমাধ্যম, ক্রীড়া এবং স্বাস্থ্য খাতে বিনিময়ে সহযোগিতা। আর বাংলাদেশ ও চীন অর্থনৈতিক এবং কারিগরি সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি চুক্তি৷
এর পাশাপাশি, প্রধান উপদেষ্টার দ্বিপাক্ষিক চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি বিষয়ে সহযোগিতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়েছে৷ এগুলো হলো- বিনিয়োগ আলোচনা শুরু করা, চীনের জন্য বাংলাদেশে বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চল চালু, মোংলা বন্দরের আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণ, একটি রোবট ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন কেন্দ্র নির্মাণ এবং একটি কার্ডিয়াক সার্জারি গাড়ি অনুদান৷
এ ছাড়াও চীনের সরকার ও কোম্পনিগুলোর কাছ থেকে ২১০ কোটি মার্কিন ডলারের অনুদান, ঋণ ও বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি মিলেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ৷ তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চীনের ৩০টি কোম্পানি বিশেষ অর্থনেতিক অঞ্চলে ১০০ কোটি ডলার বিনিযোগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে৷ মোংলা বন্দর আধুনিকায়নে ৪০ কোটি ডলার দেবে চীন৷ চীনা শিল্প ও অর্থনেতিক অঞ্চল উন্নয়নে ৩৫ কোটি ডলার , ১৫ কোটি ডলার প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে৷
২০২৮ সাল নাগাদ চীনে বাংলাদেশি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে৷ এই সুবিধা ২০২৬ সাল পর্যন্ত ছিলো৷ চীনে বাংলাদেশ আম ও কাঁঠাল রপ্তানির সুযোগ পাবে৷ মে-জুন মাস থেকে আম রপ্তানি শুরু হতে পারে৷ তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস৷ এই প্রকল্পে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে চীন৷ তবে আগে থেকেই এই সহযোগিতা চেয়ে আসছিল বাংলাদেশ৷ অধ্যাপক ইউনূস নদী ও পানি ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ৫০ বছরের মাস্টার প্ল্যানও চেয়েছেন চীনের কাছে৷