মিয়ানমারে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০০০ ছাড়িয়েছে

Media

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে মিয়ানমার। গতকাল স্থানীয় সময় শুক্রবারের এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ১০০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন দেড় হাজারেরও বেশি। এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানা যায়।

এ নিয়ে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় শহর মান্দালয়ের কাছে ৭ দশমিক ৭ তীব্রতার ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রায় ১১ মিনিট পর ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প–পরবর্তী কম্পন অনুভূত হয়। এতে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড, চীন ও ভিয়েতনামেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারের শুধু মান্দালে শহরেই নিহতের সংখ্যা ৬৯৪ জন। মিয়ানমারের রাষ্ট্রয়াত্ত সংবাদমাধ্যম দ্য গ্লোবাল নিউ লাইট জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ব্রিটিশ আমলে তৈরি সাগাইং সেতু ভেঙে গেছে। এটি মিয়ানমারের মান্দালয় ও সাগাইং অঞ্চলে ইরাবতী নদীর ওপর নির্মিত হয়েছিল।

ভূমিকম্প আঘাত হানার পর মান্দালয় এবং রাজধানী নেপিদোসহ দেশটির মধ্যঞ্চলের কয়েকটি অংশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে জান্তা সরকার। এ ছাড়া সাগাইং, মান্দালয়, বাগো এবং ম্যাগওয়ে অঞ্চলের পাশাপাশি পূর্ব শান রাজ্যেও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।


তিব্বতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯৫

প্রকাশিত:  ৭ জানুয়ারী ২০২৫

চীনের তিব্বতে প্রত্যন্ত এলাকায় শক্তিশালী এক ভূমিকম্পে অনুভূত হয়েছে। এতে অন্তত ৫৩ জন নিহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার তিব্বতে নেপাল সীমান্তের কাছে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে বহু ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে।

ভূমিকম্পের ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল বিশেষ করে বিহার, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গেও ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়। প্রতিবেশী দেশ নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

এ নিয়ে চীনের ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক সেন্টার (সিইএনসি) বলেছে, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ওই ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পের উৎপত্তি স্থল ছিল নেপাল সীমান্তের কাছে তিব্বতের ডিংরি কাউন্টি।

আঞ্চলিক দুর্যোগ ত্রাণ সদর দপ্তরের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানায়, ৫৩ জন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ৬২ জন আহত হয়েছেন।


কানাডায় অবতরণের সময় বিমান উল্টে গেল, আহত ১৮

প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

কানাডায় যাত্রীবাহী একটি বিমান অবতরণের সময় উল্টে গেছে। যেখানে ডেল্টা এয়ারলাইন্সের এই বিমানটিতে ৮০ জন আরোহী ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদ সংস্থা নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদনে আরও জানায়, কানাডার টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ৮০ জন যাত্রী বহনকারী একটি যাত্রীবাহী বিমান উল্টে গেছে। এতে কমপক্ষে ১৮ জন আহত হয়েছেন যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। গুরুতর আহতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে।

স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে বিমানবন্দর জানিয়েছে, জরুরি দলগুলো ঘটনাস্থলে আসছে। সমস্ত যাত্রী এবং ক্রুদের খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সংস্থাকে অপরদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কোম্পানি অরঞ্জ জানিয়েছে, আহত শিশুটিকে টরন্টোর সিককিডস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং গুরুতর আহত দুই প্রাপ্তবয়স্ককে অন্যান্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

যদিও কানাডায় এ বিমান দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিমানটি দুর্ঘটনার সময় টরন্টোর এই বিমানবন্দর এলাকায় শীতকালীন ঝড়ের পাশাপাশি প্রবল বাতাস এবং তুষারপাত হচ্ছে।

গত সপ্তাহের তুষারপাত ছাড়াও এই সপ্তাহান্তে আনুমানিক ২২ সেন্টিমিটার (৮.৬ ইঞ্চি) তুষারে ঢেকে গেছে কানাডিয়ান এই বিমানবন্দরটি।

এর আগে কানাডার প্রতিবেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি কয়েকটি বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে। দেশটির আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়ে ১০ জন নিহত হয়েছেন।

বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটি ছিল মার্কিন বিমান পরিষেবা সংস্থা বেরিং এয়ারের একটি সেসনা ক্যাটাগরির বিমান। এ ক্যাটাগরির বিমানগুলো ছোটো আকারের হয়।

বেরিং এয়ারের অপারেশন্স বিভাগের পরিচালক ডেভিড ওলসেন জানান, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২ টা ৩৭ মিনিটে আলাস্কার পশ্চিমাঞ্চলে উনালাকলিট থেকে নরটন সাউন্ড এলাকার উদ্দেশে রওয়না হয়েছিল উড়োজাহাজটি। উনালাকলিট থেকে নরটন সাউন্ডের দূরত্ব ১৪০ মাইল। যাত্রা শুরুর ৪৫ মিনিটের মধ্যেই উড়োজাহাজটি থেকে রাডারে সংকেত পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়।

দেশটির রাজধানী ওয়াশিংটনে এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ব্ল্যাকহক চপার হেলিকপ্টারের সঙ্গে মুখোমুখী সংঘর্ষে টুকরো টুকরো হয়ে পোটোম্যাক নদীতে ডুবে গিয়েছিল একটি যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক বিমান। ওই ঘটনায় বিমানটির চালক এবং ৬৮ জন যাত্রীর সবাই নিহত হয়েছিলেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে বিমান-হেলিকপ্টার সংঘর্ষ, ১৯ মরদেহ উদ্ধার

মাঝ আকাশে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটের সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের সংঘর্ষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিবিসির বরাতে জানা যায়, এ ঘটনায় পোটোম্যাক নদীতে বিধ্বস্ত যাত্রীবাহী বিমানের ৬৪ জন আরোহীর সবার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানে ৬০ জন যাত্রী এবং চারজন ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে ইউএস পার্ক পুলিশ, ডিসি মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীসহ কয়েকটি সংস্থা।

ওয়াশিংটন ডিসি পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষের পর বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে স্থানীয় পোটোম্যাক নদীতে পতিত হয়েছে। সেখানে একাধিক সংস্থা যৌথভাবে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।