ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের "নাথিং বাট ট্রু" অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম কথা বলেছেন, যেখানে মাহফুজ আনাম বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ইন্ডিয়া টুডের সাংবাদিক রাজ চেঙ্গাপ্পার নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
‘নাথিং বাট দ্য ট্রুথ’ শিরোনামের সাক্ষাৎকারের শুরুতেই ভারতীয় সাংবাদিক রাজ চেঙ্গাপ্পা বলেন, গত বছরের আগস্টে বাংলাদেশে ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে শেখ হাসিনাকে অপসারিত করা হয়। এর পর থেকেই বাংলাদেশের সাথে ভারতের সম্পর্ক ক্রমশই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভারত অভিযোগ করেছে যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় নিপীড়ন প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের জীবন ও সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেনি। ভারত আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে বাংলাদেশে ইসলামায়নের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশটি চীন ও পাকিস্তানের প্রতি ঝুঁকছে।
কিছু মানুষের ধারণা, ইউনূস মৌলবাদী ইসলামপন্থী ছাত্র সংগঠনের প্রভাবিত, যারা সরকারের মৌলিক নীতিগুলোর পরিবর্তন করছে। এই কারণে রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সতর্ক করেছেন যে দেশে যদি রাজনৈতিক বিভাজন এবং অস্থিরতা চলতে থাকে, তবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে।
এদিকে, থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিমসটেক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বৈঠকের আলোচনা চলছে।
এরপর ইন্ডিয়া টুডের সাংবাদিক রাজ চেঙ্গাপ্পা পরবর্তী প্রশ্নে মাহফুজ আনামকে জিজ্ঞাসা করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাত মাসের বেশি সময় ধরে দেশ পরিচালনা করছেন, যেখানে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শাসনব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার আনবেন।
মাহফুজ আনাম বলেন, ‘শুরুতে আমি তাকে মিশ্র গ্রেড দেব। কিছু ক্ষেত্রে তিনি ভালো করেছেন, তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশার তুলনায় কম করেছেন। হাসিনার সরকার ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল এবং তার চলে যাওয়ার পর যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দেয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুরুতে কিছুদিন দেশে অস্থিরতা ও সহিংসতা ছিল, তবে এখন পরিস্থিতি অনেকটা স্থিতিশীল হয়েছে।’
এরপর রাজ চেঙ্গাপ্পা বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেন, বিশেষ করে নতুন রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর উত্থান নিয়ে। মাহফুজ আনাম এই নতুন রাজনৈতিক দলের উত্থানকে বাংলাদেশের দ্বিদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখেন।
মাহফুজ আনাম বলেন, ‘এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নতুন একটি উপাদান যুক্ত করেছে এবং এটি বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করছে।’
এদিকে জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী উপাদানে এনসিপি দলটির আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের কথা বলেন রাজ চেঙ্গাপ্পা। যা বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ মূলনীতিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। মাহফুজ আনাম বলেন, ‘বাংলাদেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা মানে এই নয় যে আমরা ধর্মীয় মৌলবাদী, আমরা পাকিস্তান থেকে আলাদা হওয়ার পরে একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। আমি ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের অনুরোধ করব, তারা বাংলাদেশকে আরও গভীরভাবে বুঝুক এবং আমাদের ঐতিহ্য এবং অভিজ্ঞতা বিচার করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি এই সাংবিধানিক পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছে, এবং নির্বাচনে কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বাংলাদেশে এখন নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে, এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বর বা জানুয়ারি মাসে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’