চার দিনের সফর শেষে বাংলাদেশ ছেড়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটের দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা আহসান ও প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেনটেটিভ খলিলুর রহমান বিমানবন্দরে জাতিসংঘ মহাসচিবকে বিদায় জানান।
জাতিসংঘ মহাসচিব ঢাকা ছাড়ার আগে ফোনে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেন এবং বিদায়ী শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন জাতিসংঘ মহাসচিব। ওইদিন ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। ওই সময় জাতিসংঘ মহাসচিবের হাতে ফুল তুলে দেয় শিশুরা।
পরদিন শুক্রবার সফরের দ্বিতীয় দিনে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন গুতেরেস। সেখানে লাখো রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নেন তিনি। সফরের তৃতীয় দিনে শনিবার সকালে জাতিসংঘ কান্ট্রি টিম বাংলাদেশের সঙ্গে একটি বৈঠকে অংশ নেন।
পরে রাজধানীর গুলশানে ইউএন হাউজের উদ্বোধন করেন তিনি। দুপুরে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।পরে তরুণ সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
এদিকে শনিবার বিকেলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন আন্তোনিও গুতেরেস। সংবাদ সম্মেলনের পর অংশ নেন ইফতার ও আর্লি ডিনার সেশনে।বাংলাদেশকে সব রকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন জাতিসংঘ মহাসচিব। পাশাপাশি বাংলাদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধতা প্রকাশ করেন তিনি।
কানাডায় পালিয়েছেন মরক্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত
মরক্কোয় দায়িত্বরত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হারুন আল রশিদ কানাডা পালিয়ে গেছেন। তিনি সেখানে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারবিরোধী এবং ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার পক্ষে লেখালেখি করছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বিগত সরকারের অনুচরদের প্রশ্রয় ও পুনর্বাসন না করা হলে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতো না।
রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ হারুন আল রশিদ ফেসবুকে ‘বাংলাদেশ এবং আমার জন্য একটি আবেদন। বিষয়: ড. ইউনূসের অধীনে বাংলাদেশের নৈরাজ্যের দিকে পতন– বিশ্বের নীরবতা বেদনাদায়ক’ শীর্ষক এক স্ট্যাটাস দেন। তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈধ সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মোহাম্মদ হারুন আল রশিদ লেখেন, ‘মানবতার বিবেকের উদ্দেশে: বাংলাদেশ আজ নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ছড়িয়ে দেওয়া বর্বরতার শিকার। লাখো মানুষ এক ভয়ংকর বাস্তবতার মুখোমুখি– মৃত্যু, নির্বাসন, অথবা উগ্রপন্থার কাছে আত্মসমর্পণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, দেশটি তার ইতিহাসের এক অন্ধকারতম অধ্যায়ের মুখোমুখি হয়– একটি সুপরিকল্পিত সন্ত্রাসী আক্রমণ, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ
হাসিনার বৈধ সরকারকে উৎখাত করে বাংলাদেশের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেয়। যখন দেশ জ্বলছিল এবং শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছিল, মুহাম্মদ ইউনূস তখন আত্মপ্রকাশ করেন দখলদার হিসেবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অবস্থানরত জিহাদিরা যেমন ফরহাদ মজহার ও জাহেদুর রহমান– শেখ হাসিনার বাক্স্বাধীনতার নীতির সুযোগ নিয়ে উগ্রপন্থার প্রচার চালিয়েছে। তারা হিন্দু ও ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিয়েছে, শুধুমাত্র এই কারণে যে, শেখ হাসিনার শাসনে বাংলাদেশের হিন্দুরা নিরাপদ ছিল। তাদের মিথ্যাচার বাংলাদেশি মুসলিমদের মনে ভারতবিদ্বেষকে এক মানসিক ব্যাধিতে পরিণত করেছে, যা উগ্রপন্থার পথ সহজ করে দিয়েছে।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশের পরিচয় ধ্বংস: ইউনূসের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই জিহাদিরা বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধ্বংস করেছে, ইতিহাস ও ঐতিহ্য মুছে দিয়েছে। তারা শুধু জাদুঘর, ম্যুরাল, ভাস্কর্য ও সাংস্কৃতিক প্রতীক ধ্বংস করেনি; শত শত সুফি দরগাহ এবং হিন্দু মন্দিরও গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ইউনূসের শাসনে বাংলাদেশ নারীদের প্রতি সবচেয়ে নির্যাতনমূলক দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। সংখ্যালঘু ও ধর্মনিরপেক্ষ মানুষরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে, আর হিযবুত তাহ্রীর, আইএস ও আল কায়দা প্রকাশ্যে তাদের লাল-কালো পতাকা উড়িয়ে ইসলামী খেলাফতের দাবি জানাচ্ছে। জুলাই-আগস্ট মাসের সন্ত্রাসীরা এদের মধ্য থেকেই উঠে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘কিন্তু ড. ইউনূস শুধু তাদের রক্ষা করেননি– তাদের ক্ষমতাও দিয়েছেন। তার সরকারে সন্ত্রাসীরা মন্ত্রী হয়েছে, আর যাদের তিনি মন্ত্রিত্ব দিতে পারেননি, তাদের রাজনৈতিক দল গঠনের সুযোগ করে দিয়েছেন।’