ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মিয়ানমারে দ্বিতীয় দফা ত্রাণ পাঠাল বাংলাদেশ

Media

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭১৯ জনে। এছাড়া আহত হয়েছেন ৪,৫২১ জন ও ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ আছেন বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম সিসিটিভি। গত শুক্রবার দেশটিতে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়।

এবার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্বিতীয় দফায় জরুরি ওষুধ ও ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। এমনটিই জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়।

এ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশে মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (বিএ) ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (বিএএফ) তিনটি পরিবহন বিমানে এসব ত্রাণ ও ওষুধ পাঠানো হয়েছে।

এই মিশনে তিন বাহিনীর উদ্ধার বিশেষজ্ঞ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স (এফএসসিডি) চিকিৎসক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিকিৎসক এবং বেসামরিক চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত উদ্ধার ও চিকিৎসা দল আছে। এছাড়া মোট ৫৫ জন উদ্ধারকর্মী ও চিকিৎসক এই মিশনে অংশ নিয়েছেন। এছাড়া তিনটি বিমানে ৩৭ জন ক্রুও রয়েছেন।

এই উদ্ধার দলটি সঙ্গে খাদ্য, স্বাস্থ্যসামগ্রী, রান্নার সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গেও নিয়েছে। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৮ টন শুকনো খাবার, ২.৫ টন পানি, ৪ টন ওষুধ, ১ টন স্বাস্থ্যসামগ্রী এবং ১.৫ টন ত্রাণ তাবু পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর- আইএসপিআর বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ৫৫ সদস্যের উদ্ধারকারী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কর্নেল মো. শামীম ইফতেখার। "উদ্ধারকারী দলে আছে সেনাবাহিনীর ২১ জন, নৌবাহিনীর ২ জন, বিমানবাহিনীর ১ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১০ জন সদস্য। আর ২১ সদস্যের চিকিৎসা সহায়তা দলের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১০ জন, নৌবাহিনীর ১ জন, বিমানবাহিনীর ২ জন এবং অসামরিক ৮ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স রয়েছেন।"

আইএসপিআর বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, "বাংলাদেশ সরকারের এই মানবিক সহায়তা মিয়ানমারে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের উর্ভোগ কমিয়ে আনা এবং দুই প্রতিবেশী দেশের সরকার ও জনগণের পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আগামী দিনগুলোতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বৈশ্বিক যে কোন প্রয়োজনে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী আত্মনিয়োগের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ।"

এর আগে, গত রবিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে প্রথম দফায় ত্রাণ সহায়তা মিয়ানমারে পাঠানো হয়েছিল। সেই মিশনে ওষুধ, তাবু, শুকনো খাবার এবং একটি মেডিকেল টিম অন্তর্ভুক্ত ছিল।