যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক নিউইয়র্ক টাইমস সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যেখানে বাংলাদেশে ধর্মীয় উগ্রবাদীদের উত্থানের শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে। মঙ্গলবার সিএ প্রেস উইংফ্যাক্টসের ফেসবুক পেজে বলা হয়, ভুল চিত্র ও একতরফা দৃষ্টিভঙ্গিতুলে ধরে প্রতিবেদনটি প্রকাশকরা হয়েছে।
মার্কিনভিত্তিক নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনের শুরুতে বলা হয়, নারীরশরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে উগ্রবাদীরা বিষয়টিশুরু করেছিল।
এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের কর্তৃত্ববাদী নেতাকে উৎখাতের পর একধরনের রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে। এই শূন্যতার মধ্যে একটি শহরের ধর্মীয় মৌলবাদীরা ঘোষণা দিয়েছে, তরুণীরা আর ফুটবল খেলতে পারবে না। আরেকটি শহরেএই মৌলবাদীরা এমন এক ব্যক্তিকে ছেড়ে দিতে পুলিশকে বাধ্যকরেছে, যিনি হিজাব নাপরায় প্রকাশ্যে এক নারীকে হেনস্তা করেছিলেন। পরে তাঁকে ফুলদিয়ে বরণ করা হয়।
এরপর আরও নির্লজ্জ আহ্বান জানানো হয়েছে। ঢাকায় এক সমাবেশে বিক্ষোভকারী রাহুঁশিয়ারি দিয়েছে, সরকার যদি ইসলাম অবমাননাকারীদের মৃত্যুদণ্ড না দেয়, তাহলে তারাই তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবেন। এর কয়েক দিনপর একটি নিষিদ্ধ ঘোষিতগোষ্ঠী ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবিতে বড় মিছিল করেছে।
বাংলাদেশ যখন গণতন্ত্র পুনর্নির্মাণ ও সাড়ে ১৭কোটি মানুষের জন্য নতুন এক ভবিষ্যৎ তৈরির চেষ্টা করছে, তখন দীর্ঘ দিন ধর্ম নিরপেক্ষতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা ইসলামি উগ্রপন্থীরা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।
ইসলামপন্থীবেশ কয়েকটি দল ও সংগঠনেরপ্রতিনিধিরা, যেগুলোর মধ্যে কয়েকটি আগে নিষিদ্ধ ছিল—বিভিন্নসাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, তারা বাংলাদেশকে আরওমৌলবাদী পথে নিয়ে যাওয়ারজন্য কাজ করছেন। এইপরিবর্তন দেশের বাইরে থেকে খুব সামান্যইনজরে এসেছে।
ইসলামপন্থী নেতারা জোর দিয়ে বলছেন, বাংলাদেশে এমন একটি ‘ইসলামিসরকার’ হোক, যে সরকার ইসলাম অবমাননাকারীদের শাস্তি দেবে এবং ‘শালীনতা’ প্রতিষ্ঠাকরবে। এই অস্পষ্ট ধারণাগুলোঅন্যান্য জায়গায় বেআইনি কর্তৃপক্ষের শাসন বা ধর্মতান্ত্রিকশাসনের পথ তৈরি করেদিয়েছে।
নতুনসংবিধানের খসড়া তৈরির সঙ্গেজড়িত আছেন—এমন কর্মকর্তারা স্বীকারকরেছেন, এই খসড়ায় বাংলাদেশেরধর্মনিরপেক্ষ পরিচয়টি বাদ দেওয়া হতেপারে। সেখানে বহুত্ববাদ প্রতিস্থাপন করা হবে এবংদেশকে আরও ধর্মীয় ভিত্তিতেপুনর্গঠন করা হবে।
এদিকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আজ বলেছে, নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করছে, ইসলামি কট্টরপন্থীরা একটি উন্মোচন দেখছে’ শীর্ষক নিবন্ধটি বিভ্রান্তিকর।
প্রেস উইং তার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজ-সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস-এ পোস্ট করা এক বিবৃতিতে বলেছে, নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধটি বাংলাদেশের একটি বিভ্রান্তিকর ও একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে দেশটি ধর্মীয় চরমপন্থীদের নিয়ন্ত্রণের দ্বারপ্রান্তে। এই বয়ান কেবল দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক গতিশীলতাকে অতিরঞ্জিত করে না, বরং ১৮ কোটি মানুষের একটি সমগ্র জাতিকে অন্যায়ভাবে কলঙ্কিত করার ঝুঁকির মুখেও ফেলে দেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, একটি বিভ্রান্তিকর চিত্র তুলে ধরার মতো বেছে বেছে উসকানিমূলক উদাহরণের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে বিগত বছরে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও পরিস্থিতির জটিলতা স্বীকার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।